🌱 জাদা জিব্বেরিলিক এসিড সমৃদ্ধ উদ্ভিদ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক
জাদা এর মূল উপাদান হলো জিব্বেরেলিক এসিড। এই জিব্বেরেলিক এসিড একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিদ হরমোন। এটি উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাদা কৃষি ক্ষেত্রে ব্যবহারে অনেক উপকার পাওয়া যাই। জাদা জিব্বেরিলিক এসিড ব্যবহার করলে উদ্ভিদের কাণ্ড ও ফল খুব দ্রুত বড় হয় এবং ডালজাতীয় উদ্ভিদ যেমন মসুর,খেসারি সহ অন্যান্যফসলে দিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাই। নিচে এর উপকারী তা ও ক্ষতিকর দিকগুলো আলোচনা করা হলো
🌱 জিব্বেরেলিক এসিডের উপকারিতা:
- বীজের অঙ্কুরোদগম বৃদ্ধি: জাদা বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে এবং দ্রুত ও সমভাবে অঙ্কুরোদগমের সাহায্য করে।
- কাণ্ডের বৃদ্ধি ও কোষের প্রসারণ: জাদা উদ্ভিদের কাণ্ডের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে এবং কোষের প্রসারণে সাহায্য করে, ফলে গাছ লম্বা ও শক্তিশালী হয়।
- ফুলের বৃদ্ধি ও ফল ধারণ: জাদা ব্যবহারে কিছু উদ্ভিদের ফুল ধারণে এবং ফুলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
- ফলের আকার ও গুণাগুণ বৃদ্ধি: জাদা প্রয়োগে আঙুর, আপেল, নাশপাতি ইত্যাদি ফলের আকার বৃদ্ধি করে এবং তাদের গুণাগুণ উন্নত করে।
- পুরুষ ফুল উৎপাদন: কুমড়া জাতীয় উদ্ভিদে পুরুষ ফুলের সংখ্যা বাড়াতেজাদা ব্যবহার করা যেতে পারে, যা পরাগায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ: কিছু ক্ষেত্রে উদ্ভিদের বন্ধ্যাত্ব দূর করে ফল উৎপাদনে সাহায্য করে।
- স্টোরেজ বৃদ্ধি: কিছু ফল ও সবজির স্টোরেজ লাইফ বা সংরক্ষণের সময়কাল বাড়াতে সাহায্য করে।
- প্রতিকূলতা সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি: কিছু ক্ষেত্রে খরা, লবণাক্ততা বা ঠান্ডার মতো প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে উদ্ভিদের সহিষ্ণুতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এই জাদা।
- পাতা ও শাখা বৃদ্ধি: জাদা গাছের পাতা ও শাখার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে, যা সালোকসংশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- আলুর সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ: জাদা ব্যবহারে আলুর কন্দের সুপ্তাবস্থা ভেঙে দ্রুত চারা গজাতে সাহায্য করে।
🛑 জাদা জিব্বেরেলিক এসিডের ক্ষতিকর দিক:
- অতিরিক্ত বৃদ্ধি: অতিরিক্ত মাত্রায় জাদা ব্যবহারের ফলে গাছের অস্বাভাবিক ও দুর্বল বৃদ্ধি হতে পারে, যা ঝড়ো বাতাসে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- ফুল ও ফল ঝরে যাওয়া: কিছু উদ্ভিদে অতিরিক্ত জাদা ব্যবহারের কারণে ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস: অতিরিক্ত মাত্রায় জাদা ব্যবহারের ফলে গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে, ফলে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া: কিছু ক্ষেত্রে জাদা ব্যবহারের ফলে পাতা হলুদ হয়ে যেতে পারে, যা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে।
- উৎপাদন হ্রাস: জাদা ভুল মাত্রায় বা ভুল সময়ে ব্যবহারের ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে।
- গুণাগুণে পরিবর্তন: জাদা প্রয়োগে কিছু ক্ষেত্রে ফলের স্বাভাবিক স্বাদ, গন্ধ বা পুষ্টিগুণে পরিবর্তন আসতে পারে।
- সঠিক প্রয়োগের অভাব: জাদা ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও মাত্রা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
জাদা জিব্বেরেলিক অ্যাসিড ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই এর সঠিক মাত্রা, ব্যবহারের সময় এবং উদ্ভিদের প্রকার সম্পর্কে ভালোভাবে জেনেনিতে হবে।
🧪 ব্যবহারবিধি:
- ফসল: কলা, মসুরি, ড্রাগন, রোপন কৃত ঘাস, কুমড়া, পটল, ছোলা, মরিচ, পেয়ার, মাল্টা সহ বিভিন্ন প্রকার ফসল।
- পদ্ধতি: এ্যামকো (জিব্বেরিলিক এসিড ১০%) ব্যাবহার করার জন্য প্রতি ১৬ লিটার পানিতে ৫ গ্রাম করে এই ব্যবহার করতে হবে। তাই পানিতে ভালোভাবে গুলিয়ে ফসলে স্প্রে করতে হবে।
- মাত্রা: প্রতি ১০ লিটার পানির জন্য ০.৮ গ্রাম জাদা ব্যবহার করতে হয়।
- সাবধানতা: জাদা সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে, অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।
📦 প্রোডাক্ট এর বিস্তারিত
- প্রোডাক্টের নাম: জাদা
- প্যাকেট সাইজ: ১ গ্রাম
- রেজিস্ট্রেশন: IMP - 4468
- মূল উপাদান: জিব্বেরিলিক এসিড ২০%
- বাজারজাতকারী কোম্পানি: ইনতেফা
প্রয়োগমাত্রা:
|
ফসল |
১৬ লিটার পানির জন্য |
প্রয়োগের সময় |
|
আম |
১ গ্রাম |
আম পাকার ২০ দিন পূর্বে |
|
মসুর |
১ গ্রাম |
মসুরির বয়স ২০ থেকে ৩৫ দিনের ভিতর |
|
কলা |
১ গ্রাম |
কলা সংগ্রহের ১৫ দিন পূর্বে |
|
ছোলা |
১ গ্রাম |
ছোলার বয়স ২০ থেকে ৩৫ দিনের ভিতর |