জামাম - ইনতেফা জৈব উদ্দীপক ও পিজিআর (Jamam Biostimulant & PGR)
জামাম সম্পূর্ণভাবে সামুদ্রিক শৈবাল থেকে তৈরি। শৈবাল গুলো সমুদ্রের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়, যেখানে তারা প্রাকৃতিকভাবে ৬০+ মাইক্রো-ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট, হরমোন, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন শোষণ করে। উৎপাদনে শৈবাল শুকিয়ে, নিষ্কাশন করে এবং পাউডারে রূপান্তরিত করা হয় যাতে সকল প্রাকৃতিক উপাদান অক্ষুন্ন থাকে। এতে কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক নেই, তাই গাছ, মাটি, মানুষ ও পরিবেশের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
জামাম এর মূল উপাদান:
- জৈব পদার্থ (Organic Matter) – ৪৫%: গাছের প্রাকৃতিক পুষ্টি সরবরাহ করে, মাটির জৈবিক কার্যকলাপ বাড়ায় এবং উপকারী অনুজীবের বৃদ্ধি ঘটায়।
- অ্যালজিনিক এসিড (Alginic Acid) – ১৬%: শিকড় মজবুত করে, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে, পুষ্টি শোষণ বাড়ায়, মাটি-গাছের কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে এবং খরা/লবণাক্ততা সহ্য করতে সাহায্য করে।
- জিবেরেলিন (Gibberellin / Gibberellic Acid) – ০.০৬%: কোষ বিভাজন ও প্রসারণ উদ্দীপিত করে উদ্ভিদের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়, ফুল-ফলের বিকাশ ত্বরান্বিত করে, ফলের আকার বাড়ায়।
জামামের প্রধান কার্যকারিতা ও উপকারিতা
- দ্রুত পুষ্টি শোষণ: খাদ্য উপাদান অল্প সময়ে গাছে প্রবেশ করে।
- শিকড় শক্তিশালী: গভীর শিকড় গজায়, পানি-পুষ্টি শোষণ বাড়ে।
- ফুল-ফল ঝরা রোধ: ফল ধরা ও বিকাশ বাড়ে, ফল বড়-সুস্বাদু হয়।
- রোগ-পোকা প্রতিরোধ: প্রাকৃতিক ইমিউনিটি বাড়ায়, ছত্রাক-ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ কমায়।
- প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য: খরা, লবণাক্ততা, ঠান্ডা-গরমে গাছ সতেজ থাকে।
- মাটির উন্নয়ন: জৈব পদার্থ বাড়ায়, উপকারী অণুজীব বৃদ্ধি করে, মাটির গঠন উন্নত করে।
- ফলন বৃদ্ধি: সবজি-ফলে ২০-৫০% বেশি উৎপাদন, গুণগত মান উন্নত।
- জৈব কৃষি উপযোগী: রাসায়নিক সারের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
কখন ও কীভাবে ব্যবহার করবেন?
জামাম পুরোপুরি পানিতে দ্রবীভূত হয়। স্প্রে (ফলিয়ার) বা সেচ (ড্রিপ/মাটি) উভয় ভাবে প্রয়োগ করা যায়।
- সাধারণ ডোজ (স্প্রে): প্রতি লিটার পানিতে ০.৪-১ গ্রা (প্রায় ১/৪ চা চামচ) মিশিয়ে স্প্রে করুন।
- মাটি প্রয়োগ: প্রতি ৩৩ শতাংশ জমির জন্য ২৫০ গ্রাম একর প্রতি ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি।
- সময়সূচী:
- চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর।
- ফুল আসার আগে ও ফুল ফোটার সময়।
- ফল ধরার পর ও ফল বড় হওয়ার সময়।
- একই ফসলে ১৫-২৫ দিন অন্তর ১-৩ বার প্রয়োগ করলে সর্বোত্তম ফল পাওয়া যায়। তবে ফসল অনুযায়ী মাত্রা ভিন্নভিন্ন হতে পারে।
- টিপস: বিকালে বা সকালে স্প্রে করুন (রোদ কম থাকলে), প্যাকেট ভালো করে ঝাঁকান। অন্যান্য সারের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়।
- সতর্কতা:
-
- জামাম মাটিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে অবশ্যই সেচ দিতে হবে।
- অতিরিক্ত ডোজ এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ অতিরক্ত লম্বা ও দেহ দূর্বল হবে এতে বাতাসে উদ্ভিদ ভেঙ্গে যাবে।
- শুকনো ও ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
- শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
কেন জামাম বেছে নেবেন?
আজকের কৃষিতে রাসায়নিক সারের অত্যধিক ব্যবহার মাটিকে নষ্ট করছে। জামাম প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে গাছের শক্তি বাড়ায়, ফলন বৃদ্ধি করে এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। ইনতেফা কোম্পানির বিশ্বস্ত পণ্য হিসেবে কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয়। জৈব কৃষি, উচ্চ ফলন ও লাভজনক চাষের জন্য জামাম আপনার সঠিক সমাধান হতে পারে!
প্রয়োগমাত্রা:
|
ফসল |
প্রতি ১ লিটার পানইতে স্প্রের জন্য |
মাটিতে প্রয়োগ করলে ৩৩ শতাংশ জমির জন্য |
|
ঢেড়স ও শসা |
০.৫ গ্রাম |
২০০ গ্রাম |
|
টমেটো, বেগুন |
০.৫ গ্রাম |
২০০ গ্রাম |